শুক্রবার, জুলাই ৩, ২০২৬
No menu items!
spot_img

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে জহিরুল শিকদার (৩৯) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত সান্ত শিকদার (২২) ও জাহাঙ্গীর শিকদার (৫৮) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ।

বুধবার (১ জুলাই) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল শিকদার ছোট বাসাইল গ্রামের আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে।

স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছোট বাসাইল গ্রামের জহিরুল শিকদারের সঙ্গে একই গ্রামের আনিচ শিকদারের ছেলে সিন্টু শিকদার ও সান্ত শিকদার, জাহাঙ্গীর শিকদারের ছেলে জুয়েল শিকদার এবং মৃত চান্দু শিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর শিকদারসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই বুধবার গভীর রাতে জহিরুল শিকদারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের সড়কে তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে সিন্টু শিকদারকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের বড় ভাই এনামুল শিকদার বলেন, সকালের সংঘর্ষের পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টির মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু রাতে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সান্ত শিকদার ও জাহাঙ্গীর শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular