বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
No menu items!
spot_img

বরিশাল অঞ্চলজুড়ে ডেঙ্গু ও হামের ভয়াবহ বিস্তৃতি অব্যাহত

হামের সাথে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা পুরো বরিশাল অঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠাকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চলেছে। ইতোমধ্যে শুধু সরকারি হাপসতালেই হাম ও ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ৩০ হাজার ছুতে চলেছে। মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের। যারমধ্যে গত ১৫ দিনেই আরো প্রায় ৫ হাজার হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ সময়ে আরো প্রায় ২ হাজার ডেঙ্গু রোগীও সরকারি হাসপতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১৫টি শিশু ছাড়াও ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে।

এ নিয়ে বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তকে ভর্তি করা হল। আর সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ দুটি রোগের উপসর্গে মৃত্যুও সংখ্যাও ৮২ জনে উন্নীত হয়েছে।

এমনকি মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১০২টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপতাল, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই প্রায় ১শ’ হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। হাসপাতালটির ৭৬ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে মঙ্গলবারও ৪ শতাধিক শিশু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যাও ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার ৫শ’ কাছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাসহ মশক নিধনের নানা ধরনের ওষুধ ছেটানোর পরেও বরিশাল অঞ্চল জুড়েই ডেঙ্গুর দাপটও অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার সকালেও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুলাল হাওলাদার নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৫ বছরের এক ব্যক্তি শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এ পর্যন্ত সমগ্র বিভাগে যে ১৩ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তার ১১ জনই শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও ৬৬৮ পৌঁছেছে। তবে সর্বাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে পিরোজপুরের সরকারি হাসপাতালগগুলোতে, ২ হাজার ২৮৭ জন।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সরকারি হাসপাতালের আরো কয়েকগুনে ডেঙ্গু ও হাম রোগী বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক এবং চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন ইতোমধ্যে। হামের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি। সরকারি হাসপাতালের কয়েকগুনেরও বেশি রোগী বিভিন্ন চিকিৎসকের তত্বাবধানে ঘরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতি খুব নাজুক না হলে কেউ সরকারি হাসপাতালের ধারে কাছেও যায় না।

স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে হাম ও ডেঙ্গুসহ প্রতিটি রোগের হাত থেকে সচেতন হতে সবাাইকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এমনকি বরিশাল সিটি করপোরেশনও ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুরো নগরীজুড়ে ব্যপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরিশালের সিটি করপোরেশনসহ প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেও সীমিতাকারে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular