বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬
No menu items!
spot_img

বিয়ের এক মাসেই শুরু মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ, মৃত্যুর ৯ মাস পর মায়ের মামলা

মায়ের আবদারেই আপন মামাতো বোনকে বিয়ে করেছিলেন বেল্লাল। ভেবেছিলেন, পরিচিত পরিবারে বিয়ে মানেই হবে আপনজনের মতো সম্পর্ক। কিন্তু বিয়ের এক মাস না যেতেই বদলে যায় সেই বাস্তবতা। শুরু হয় অপমান, গালাগাল আর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ। ‘ভাদাইম্মা’, ‘অকর্মা’সহ নানা কটূক্তির পাশাপাশি বারবার বলা হতো—বিষ খেয়ে মর।

অভিযোগ, দিনের পর দিন এমন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে একসময় ভেঙে পড়েন তরুণ বেল্লাল। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে চম্পাপুর ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে বিষপান করেন তিনি। মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্বজনদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, শ্বশুর-শাশুড়িই তাকে বিষ খেয়ে মরতে বলেছেন এবং মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের দেবপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ থাকলেও রক্তের সম্পর্কের কারণে এবং বেল্লালের রেখে যাওয়া একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে পরিবারটি তখন আইনি পথে যায়নি । আপস-মীমাংসার আশায় কেটে যায় আরও কয়েক মাস।

কিন্তু সেই অপেক্ষারও যেন শেষ নেই। মৃত্যুর প্রায় নয় মাস পর অবশেষে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কলাপাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন বেল্লালের মা লাইজু বেগম। মামলায় ছেলের মৃত্যুর জন্য তারই ভাই ইলিয়াস ও ভাবির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন তিনি।

লাইজু বেগমের দাবি, তার আবদারেই ছেলের বিয়ে হয়েছিল। অথচ বিয়ের পর ঘরজামাই রাখার বিষয়কে কেন্দ্র করে নিজের ভাই ও ভাবির কাছেই ছেলেকে অপমানিত হতে হয়েছে। এখন আরেক সন্তানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তাই এক সন্তানকে হারানোর পর আরেক সন্তানকে হারানোর ভয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে বেল্লালের শ্বশুর ইলিয়াস বলেন, বিষপানের দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন। জামাইকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’।

কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ নেই। আদালত নির্দেশনা পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular