বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬
No menu items!
spot_img

গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ল বিরল ‘সার্জেন্ট মেজর’, উৎসুক জনতার ভিড়!

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল ও আকর্ষণীয় সামুদ্রিক প্রজাতির ‘সার্জেন্ট মেজর’ মাছ। রঙিন বর্ণ ও ব্যতিক্রমী গঠনের মাছটি আলীপুর মৎস্য বন্দরে এনে বরফে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) মাছটি বন্দরে আনার পর একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় জমে।

জানা গেছে, ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের মাঝি ইদ্রিসের জালে তিন-চার দিন আগে গভীর সমুদ্রে মাছটি ধরা পড়ে। পরে সেটি আলীপুর বন্দরের মেসার্স সিফাত ফিসে নিয়ে আসা হয়।

ট্রলারের মাঝি ইদ্রিস বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে মাছটি জালে ওঠে আসে। দেখতে খুব সুন্দর হওয়ায় আমরা এটি ফেলে না দিয়ে তীরে নিয়ে আসি। আমার জালে এ ধরনের মাছ এই প্রথম ধরা পড়েছে।’

মেসার্স সিফাত ফিসের ম্যানেজার মাইনুল ইসলাম শামিম বলেন, ‘মাছটি দেখতে অনেক সুন্দর। তাই বরফে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। আগে কখনো এমন মাছ দেখিনি।’

ডাব্লিউসিএস (ডব্লিউসিএস) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘সার্জেন্ট মেজর’ মাছ (Abudefduf spp) পোমাসেন্ট্রিডি (Pomacentridae) পরিবারের একটি সামুদ্রিক মাছ। বাংলাদেশে এটি অঞ্চলভেদে পাথারী মাছ, কালো ডোরা সৈনিক মাছ বা রেহা মাছ নামে পরিচিত। মাছটির দেহ চ্যাপ্টা ও ডিম্বাকার, পিঠে হালকা হলুদাভ আভা এবং শরীরের দুই পাশে ৪ থেকে ৫টি গাঢ় উল্লম্ব ডোরা থাকে, যা সহজেই এ মাছকে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।

তিনি জানান, এ মাছ মূলত বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় পাথুরে এলাকা ও প্রবাল প্রাচীর, বিশেষ করে সেন্টমার্টিন দ্বীপের আশপাশের অগভীর সামুদ্রিক পরিবেশে বাস করে। এটি সর্বভুক; শৈবাল, জুপ্ল্যাঙ্কটন ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে সামুদ্রিক খাদ্যজালের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাণিজ্যিক গুরুত্ব তুলনামূলক কম হলেও উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয়ভাবে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি উজ্জ্বল রঙ ও ডোরাকাটা নকশার কারণে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক অ্যাকোয়ারিয়াম ব্যবসায় এটি জনপ্রিয় শোভাবর্ধনকারী মাছ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘এ ধরনের সামুদ্রিক মাছ আমাদের উপকূলীয় জলসীমায় থাকলেও খুব কম ধরা পড়ে। জেলেদের জালে মাঝে-মধ্যে এমন ব্যতিক্রমধর্মী প্রজাতির মাছ ওঠে আসে। এসব মাছের তথ্য সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষণার জন্য এ ধরনের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ।’

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular