শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
No menu items!
spot_img

ধানের বীজে ‘প্রতারণা’, কাঙ্ক্ষিত ফলন না পেয়ে কৃষকের মাথায় হাত

বরগুনার আমতলীতে ব্রি-৯৮ জাতের ধানের বীজ কিনে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দুই শতাধিক কৃষক। বীজ রোপণের প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও অনেক জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। আউশ মৌসুমে ক্ষতির পর একই জমিতে আমন চাষ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে কৃষকদের মধ্যে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ছুরিকাটা এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ধানর গোছা হাতে বীজের মান নিয়ে অভিযোগ করেন।

তাদের দাবি, আমতলী পৌরশহরের বাঁধঘাট এলাকার বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদারের কাছ থেকে ব্রি-৯৮ জাতের বীজ কিনে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান কৃষকরা

কৃষকরা জানান, গত এপ্রিল মাসে তারা জমি প্রস্তুত করে ব্রি-৯৮ জাতের ধান চাষের জন্য বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করেন। পরে চারা জমিতে রোপণ করা হয়। ব্রি-৯৮ জাতের ধান সাধারণত প্রায় ১১০ দিনে কাটার উপযোগী হওয়ার কথা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অনেক জমিতে ধানে আশানুরূপ ফলন আসেনি।

কৃষকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তারা ডিলারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সন্তোষজনক সমাধান পাননি। ব্রি-৯৮-এর নামে অন্য জাতের ধান বিক্রি করা হয়ে থাকতে পারে।

কৃষকরা আরও জানান, আউশ মৌসুমের ধান কাটার পর একই জমিতে আমন চাষ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু আউশ ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন না হওয়ায় সময়মতো জমি খালি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে আমন মৌসুমের চাষও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

কৃষক মো. দুলাল হাওলাদার বলেন, ‘আমি ৮ একর জমিতে ব্রি-৯৮ ধানের চারা রোপণ করেছি। কিন্তু আশানুরূপ ফলন আসেনি। এখন আমন ধান চাষ করার অবস্থাও নেই। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি। এখন কী করব, বুঝতে পারছি না।’

কৃষক দেলোয়ার গাজী বলেন, ‘আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। কীভাবে সংসার চালাব, বুঝতে পারছি না। আমরা ডিলার খালেক হাওলাদারের শাস্তি দাবি করছি।’

কৃষক মো. রনি আহমেদ বলেন, ‘ব্রি-৯৮ ধান রোপণ করে এলাকার দুই শতাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন অনেক কৃষকেরই পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে।’

কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘কৃষিই আমার মূল পেশা। ধান চাষের আয় দিয়ে সারা বছর পরিবার-পরিজনের ভরণপোষণ করতে হয়। এবার সেই ধান হয়নি। আমরা আউশ ও আমন দুই মৌসুমেই ধান চাষ করি। কিন্তু এবার কোনো মৌসুমেই ঠিকমতো ধান চাষ করতে পারব কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি।’

তবে কৃষকদের অভিযোগ অস্বীকার করে বীজ ডিলার মো. খালেক হাওলাদার বলেন, ‘আয়ান সিডের মোড়কে আমি অন্য কোনো জাতের ধান প্যাকেটজাত করিনি। কোম্পানি যেভাবে দিয়েছে, আমি সেভাবেই কৃষকদের কাছে বিক্রি করেছি।’

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সরেজমিনে বিষয়টি দেখতে আসবেন। ডিলার বিধি ভঙ্গ করে বীজ বিক্রি করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular