সোমবার, অক্টোবর ১২, ২০২৬
No menu items!
spot_img

স্বামীর মৃত্যুর পরই বসতভিটা ছাড়া বিধবা! উজিরপুরে স্বজনদের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ।

বরিশালের উজিরপুরে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। নির্যাতন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে শেষ সম্বল বসতভিটা ছেড়ে অন্য গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন নাছিমা বেগম (৫০) নামে এক বিধবা নারী। এ ঘটনায় ১০ অক্টোবর উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের ভরশাকাঠী গ্রামের।

ভুক্তভোগী নাছিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর স্বামী আনোয়ার সিকদার প্রায় তিন মাস আগে মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর বসতভিটা ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। এ ঘটনায় তাঁর দেবর রফিকুল ইসলাম সিকদার, জা খুকু মনি এবং মেজো দেবরের ছেলে শাওন সিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

নাছিমা বেগমের দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁকে বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। বসতভিটার জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়া, গভীর রাতে ঘরের ওপর ঢিল ছোড়া এবং নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, তাঁকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে না গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রাতের আঁধারে বসতভিটা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন তিনি।

নাছিমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে সরকারি সহায়তা হিসেবে পাওয়া ঢেউটিন, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামালও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পাশের একটি গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল হারিয়ে তিনি চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, একজন বিধবা নারীর বসতভিটা নিয়ে এমন বিরোধের ঘটনা উদ্বেগজনক। তাঁরা বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং ভুক্তভোগীকে আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে, অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। ফলে এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় নাছিমা বেগমের দায়ের করা লিখিত অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular