বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম, হয়রানি ও সরকারি নথি নিয়ে কারসাজির অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আলী সুজা স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে সানজিদার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদ ও সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
প্রকাশিত সংবাদে উঠে আসা অভিযোগের বিষয়ে সানজিদাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। একই দিনে উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মো. শাহজাদা মিয়াঁকে সানজিদার বিরুদ্ধে সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে সানজিদার বিরুদ্ধে পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি এবং সরকারি নথি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ইচলাদি মৌজার এসএ ১৫৯ নম্বর খতিয়ানের জমি নিয়ে বিরোধের মধ্যে এক লাখ টাকার বিনিময়ে নামজারি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন খতিয়ানে তহশীলদারের স্বাক্ষর ও সিল ছাড়াই হাতে লেখা তথ্য পোস্টিং এবং জেএল ৯২ নম্বর উজিরপুর মৌজার এসএ ১২৪ নম্বর খতিয়ানের নথি দুই লাখ টাকার চুক্তিতে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া গত ১৫ সেপ্টেম্বর শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মমতাজ বেগমকে সানজিদার কথামতো কাজের রিপোর্ট না দেওয়ায় দুর্ব্যবহার এবং পরবর্তীতে তার পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
সানজিদাকে একাধিকবার বদলির আদেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একাধিক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আলী সুজা বলেন, অভিযোগের বিষয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সানজিদাকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সেবাপ্রত্যাশীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কানুনগোকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শিকারপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক সানজিদার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



