সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
No menu items!
spot_img

বরিশালে লক্ষ্মীর হাটে প্রতিমা-কলাগাছ কিনতে ভক্তদের ভিড়

লক্ষ্মীপূজাকে ঘিরে বরিশাল নগরীতে জমে উঠেছে প্রতিমা ও পূজার উপকরণের হাট। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে বসা দুই দিনব্যাপী এ হাটে প্রথম দিনেই ক্রেতাদের ভিড় ও বেচাকেনায় সরগরম হয়ে উঠেছে হাটখোলা হরি মন্দির প্রাঙ্গণ। তবে গত বছরের তুলনায় প্রতিমাসহ পূজার বিভিন্ন উপকরণের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব লক্ষ্মীপূজা। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পূজাকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীর হাটখোলা হরি মন্দির প্রাঙ্গণ ও বাজার রোড এলাকায় বসেছে লক্ষ্মীপূজার হাট। পাশাপাশি বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশার দুর্গাসাগর দিঘির পাড়েও দীর্ঘদিন ধরে এ হাট বসে আসছে।

শনিবার সরেজমিনে নগরীর হাটখোলা হরি মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা যায়, সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে লক্ষ্মী দেবীর প্রতিমা। তিন ধরনের কয়েক হাজার প্রতিমার পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে টুনি ফুল, লাল পদ্ম, কলাবউ, সুপারি, প্রসাদ, বেলপাতা ও পূজার অন্যান্য উপকরণ। হাটে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে আসা ক্রেতাদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো।

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকার ও ধরনভেদে লক্ষ্মী প্রতিমার দাম ৫৯ টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। কলাবউ বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। পদ্ম ফুলের কলি ২০ টাকা, কুচি ফুল প্রতিটি ১০ টাকা এবং ঝরা মালা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চৌরির দাম ১৫০ টাকা। পাঁচ কদম, চার কদম ও নয় কদমের দাম ৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। মিদুপ বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা এবং শড়া ২০০ টাকায়।

লক্ষ্মী প্রতিমা বিক্রেতা গণেশ পাল বলেন, শনিবার সকাল থেকেই হাটে ক্রেতাদের ভিড় ছিল। বেচাকেনাও মোটামুটি ভালো হয়েছে। রোববার সকালে ক্রেতা আরও বাড়তে পারেন বলে আশা করছি। এখন পর্যন্ত বেচাকেনা সন্তোষজনক, তাই ব্যবসায়ীরা খুশি।

তবে বাজারে ক্রেতাদের সন্তুষ্টির পাশাপাশি রয়েছে দামের চাপও। ঊষা রানী, অঞ্জলি ও সবিতা দত্তসহ কয়েকজন ক্রেতা জানান, গত বছরের তুলনায় লক্ষ্মী প্রতিমা ও পূজার অন্যান্য উপকরণের দাম কিছুটা বেশি। পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে গিয়ে তাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

বরিশাল মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল সাহা বলেন, লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে অনেক হিন্দু নারী উপবাসব্রত পালন করেন। পূজা-অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ির আঙিনায় আঁকা হয় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে পূজার নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular