স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরও চালু হয়নি বরিশালের একমাত্র শিশু হাসপাতাল। নির্মাণ শেষ হওয়ার প্রায় ৯ বছর পরও নগরীর আমানতগঞ্জের ২০০ শয্যার হাসপাতালটি পড়ে আছে তালাবদ্ধ অবস্থায়। অথচ শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের শিশু বিভাগে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। এর ওপর চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট রয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাম ও ডেঙ্গুসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুরাও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে ২০১৭ সালে আমানতগঞ্জ এলাকায় ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় দীর্ঘ ৯ বছরেও চালু হয়নি এর কার্যক্রম। এপ্রিলের শেষ দিকে হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ হাসপাতাল পরিদর্শন করে এক সপ্তাহের মধ্যে কার্যক্রম শুরুর নির্দেশ দেন। তখন অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও বিদ্যুৎ সাবস্টেশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি ছিল। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় জনবল পদায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। গণপূর্ত বিভাগের তথ্যমতে, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকাদার দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রেখেছিলেন। বাড়তি অর্থ না পাওয়ায় অবশিষ্ট কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে ঠিকাদার বাকি কাজ শেষ করেন। এর মধ্যে ১১ মে বরিশাল সফরে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ১ আগস্টের মধ্যে হাসপাতাল চালুর আশা প্রকাশ করেন। তখন হামে আক্রান্ত শিশু মৃত্যু ঠেকাতে দ্রুত হাসপাতাল চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ১০টি নিউনেটাল ভেন্টিলেটর, একটি সিটি স্ক্যান, দুটি এক্স-রে, একটি পোর্টেবল এক্স-রে, ২০টি মাল্টিপ্যারামিটার বা কার্ডিয়াক মনিটর, ১০টি ফটোথেরাপি মেশিন ও ১০টি ওয়ার্মারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি জুলাইয়ের মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিছু যন্ত্র টেন্ডারের মাধ্যমে এবং কিছু স্থানীয়ভাবে কেনার কথা ছিল। অর্থের সংকট হলে তাৎক্ষণিক অর্থের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমি ১ আগস্ট থেকে হাসপাতালটি চালু করতে চাই’। কিন্তু আগস্ট পেরিয়ে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও বাস্তবায়ন হয়নি সেই ঘোষণা।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য কিছু যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে বরিশালে এসেছে। আরও কিছু যন্ত্রপাতি আনার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে হাসপাতালটি চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।
বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের পরও দীর্ঘদিন হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় সরকারি অর্থের বড় বিনিয়োগ কাজে আসছে না। অন্যদিকে শিশুদের চিকিৎসার জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে সেখানে শিশু রোগীর চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে জানতে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মো. রেফায়েতুল হায়দারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
বরিশাল জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।