বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ১৫, ২০২৬
No menu items!
spot_img

বরিশালে ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক সভা অনুষ্ঠিত

তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন ও নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বরিশালে অধিকারকর্মী, সচেতন-সুশীল নাগরিক, যুব সংগঠন, শিক্ষার্থীসহ নানা মহলের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে টাউনহল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বরিশালের প্যাভিলিয়ন কনভেনশন হলে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এ সভা দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন-এর সহযোগিতায় এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)’র অর্থায়নে আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী ও যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটি।

সভায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের বর্তমান চিত্র, সরকারি তথ্য প্রাপ্তিতে নাগরিকদের অধিকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও ভূমিকা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা শক্তিশালী হয় এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পায়।‘
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, তথ্য অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, যুব সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচকরা তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, ‘তথ্য চাওয়া ও পাওয়ার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের অন্যতম অধিকারের একটি। বিভিন্ন কাঠামোর দুর্বলতা, অসচেতনতা, মাধ্যম সম্পর্কে ভালোভাবে না জানা,সংশ্লিষ্টদের দূর্বল ভূমিকাসহ নানা কারণে এ অধিকার থেকে নাগরিকগণ বঞ্চিত হচ্ছে। এই উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি নির্ভর সময়ে এসেও আমরা কেন এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি তা নিয়ে আমাদের ভাবনা ও করণীয় সম্পর্কে এখনই সঠিক সময়।’

এ সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মহসিনা হোসেন বলেন, “সময় এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছি না। তথ্যকে মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক পেজের কার্যকর ব্যবহার জরুরি।”
এ সময় সহকারী তথ্য অফিসার মৃদুল চৌধুরী বলেন, “তথ্য অধিকার আইন একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রভাবশালী আইন। এটি সরকার কর্তৃক প্রণীত হলেও জনগণ সরাসরি এই আইন ব্যবহার করতে পারে। তথ্য চাইলে প্রশাসন তা দিতে বাধ্য।”
এছাড়াও সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সাজ্জাদ পারভেজ তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে লাল সবুজ সোসাইটির প্রজেক্ট অফিসার মোমেনা সিফা রুমকি সভার লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান।

এ সভায় বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়, এ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের মধ্যে ছিল-
তথ্য অধিকার বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার, তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের তথ্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও সক্রিয়ভাবে অবহিত করা।
লাল সবুজ সোসাইটি ও আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সভা থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে, যাতে তথ্য অধিকার আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ ও নিশ্চিত করা যায়।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular