পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষক ১৫ জন কর্মচারী ৩ জন। এর বিপরীতে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৫ পরীক্ষার্থীর কেউই পাশ করেনি।
সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ওই পাঁচজনের একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
প্রতিষ্ঠানটি নন-এমপিও। ১৮ শিক্ষক-কর্মচারীর এ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুই শতাধিক। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্তির জন্য আবেদনও করেছে। এরপরও দাখিল পরীক্ষায় পাঁচ পরীক্ষার্থীর কেউই পাশ না করায় অভিভাবকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অকৃতকার্য এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে ঠিকমতো পড়ত না, মাদ্রাসাও ঠিকমতো লেখাপড়া করায়নি। স্যাররা নিয়মিত আসতেন না। তারা যদি আরেকটু গাইড করতেন, তাহলে ভালো ফল করতে পারত।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চলতি বছর পাঁচ শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে কেউই পাশ করতে পারেনি। এর সুনির্দিষ্ট কারণ আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা এখনো এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকেরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নেছারাবাদের ২১টি মাদ্রাসা থেকে ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩০৯ জন পাশ করেছে। পাশের হার ৫৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন।
নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে যথেষ্ট শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হয়েছে, তাদের কাছে চিঠির মাধ্যমে কারণ জানতে চাওয়া হবে।