পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পেশাগত অসদাচরণসহ ২৪টি অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসিবুল হাসান। তার স্বাক্ষরিত স্মারকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ওই নোটিশ দেওয়া হয়।
নোটিশে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব একক স্বাক্ষরে পরিচালনা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি ও অন্যান্য খাত থেকে আদায় করা প্রায় ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৯৭ হাজার ৭৫৪ টাকা উত্তোলন এবং নির্ধারিত সময়ে ২৪ লাখ ৬ হাজার ৫৭৬ টাকার হিসাব দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়েছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
নোটিশ অনুযায়ী, সরকারি পিবিজিএসআই স্কিমের ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে ব্যয় না করে ফেরত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে ২০ জন সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রী, ছয়জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছাত্রী, শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, উৎসে ভ্যাট ও আয়কর না কেটে গত আড়াই বছরে সরকারের প্রায় ১২ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্ট্যাম্প আইন অমান্য করে ক্যাশ ভাউচারে স্ট্যাম্প ব্যবহার না করেও লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, অর্থের বিনিময়ে নির্ধারিত রোল নম্বরের বাইরে গিয়ে বেআইনিভাবে ছাত্রী ভর্তি, উপবৃত্তির অর্থ শিক্ষকদের মধ্যে বিতরণ না করে আত্মসাৎ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অনুমতি ছাড়া বেঞ্চ ও টেবিল একটি হোটেল মালিকের কাছে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোসা. সেলিনা আক্তারের ব্যক্তিগত বিষয়, বিয়ে, বয়স, গায়ের রং ও পোশাক নিয়ে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি পরিচালনা কমিটির সভাপতির অনুমোদন ছাড়া একক সিদ্ধান্তে সহকারী প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার এবং শিক্ষকদের বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা বন্ধ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নোটিশে এসব কর্মকাণ্ডকে বরিশাল বিভাগীয় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪ এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নীতিমালা-২০২৬-এর আলোকে অদক্ষতা, পেশাগত অসদাচরণ, কর্তব্যে অবহেলা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশ পাওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে প্রধান শিক্ষককে। একই সঙ্গে চাকরি থেকে তাকে বরখাস্ত করা হবে না কেন বা অন্য কোনো উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে চান কি না, সেটিও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে অধিকতর তদন্তের পর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান বলেন, প্রধান শিক্ষককে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারলে বিষয়টি সেভাবেই নিষ্পত্তি হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত বা বাধ্যতামূলক ছুটিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে অধিকতর তদন্ত করা হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া গেছে।