বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬
No menu items!
spot_img

বরিশালে হাম ও ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার: বাড়ছে মৃত্যু, হাসপাতালে ঠাঁই নেই

হামের সাথে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা পুরো বরিশাল অঞ্চলের মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠাকে ক্রমাগত বৃদ্ধি করে চলেছে। ইতোমধ্যে শুধু সরকারী হাপসতালেই হাম ও ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ৩০ হাজার ছুতে চলেছে। মৃত্যু হয়েছে ৮২ জনের।

যারমধ্যে গত ১৫ দিনেই আরো প্রায় ৫ হাজার হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু সরকারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এসময়ে আরো প্রায় ২ হাজার ডেঙ্গু রোগীও সরকরী হাসপতালে ভর্তি হয়েছেন। এসময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১৫টি শিশু ছাড়াও ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর জানিয়েছে।

এনিয়ে বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তকে ভর্তি করা হল। আর সরকারী হাসপাতালগুলোতে এ দুটি রোগের উপসর্গে মৃত্যুও সংখ্যাও ৮২ জনে উন্নীত হয়ছে। এমনকি মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে
আরো ১০২টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এ অঞ্চলের সর্ববৃহত সরকারী হাসপতাল, শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই প্রায় ১শ হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু চিকিৎসাধীন ছিল।

হাসপাতালটির ৭৬ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে মঙ্গলবারও ৪ শতাধিক শিশু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারী হাসপাতালে ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যাও ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার ৫শর কাছে বলে জানা গেছে।
অপরদিকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সহ মশক নিধেনে নানা ধরনের ওষুধ ছেটানোর পরেও বরিশাল অঞ্চল যুড়েই ডেঙ্গুর দাপটও অব্যাহত রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালেও বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে দুলাল হাওলাদার নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত
৫৫ বছরের এক ব্যক্তি শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। যারফলে এ পর্যন্ত সমগ্র
বিভাগে যে ১৩ ডেঙ্গু রাগীর মৃত্যু হয়েছে, তার ১১ জনই শের ই বঅংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ইতোমধ্যে হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও ৬৬৮তে পৌছেছে। তবে সর্বাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে পিরোজপুরের সরকারী হাসপাতালগগুলোতে, ২,২৮৭জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, সরকারী হাপতালের আরো কয়েকগুনে ডেঙ্গু ও হাম রোগী বিভিন্ন বেসরকারী ক্লিনিক এবং চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছেন ইতোমধ্যে। হামের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি।

সরকারী হাসপাতালের কয়েকগুনেরও বেশি রোগী বিভিন্ন চিকিৎসকের তত্বাবধানে ঘরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এসব
চিকিৎসকদের মতে, পরিস্থিতি খুব নাজুক না হলে কেউ সরকারী হাসপাতালের ধারে কাছেও যায়না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম ও ডেঙ্গু সহ প্রতিটি রোগের হাত থেকে সচেতন হতে সবাাইকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এমনকি বরিশাল সিটি করপোরেশনও  ডেঙ্গু প্রতিরোধে পুরো নগরী যুড়ে ব্যপক পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বরিশালের সিটি করপোরেশন সহ প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদেও সিমিতাকারে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। তবে গত বছরের মত এবারো শহরের প্রায় সমান এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক পল্লী অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular