সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
No menu items!
spot_img

উজিরপুরে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার অফিসে হামলা-ভাঙচুর, ৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ

বরিশালের উজিরপুরে স্টেডফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের একটি কার্যালয়ে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরা, মোটরসাইকেল, আসবাবপত্র, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শাখা ব্যবস্থাপক। এ ছাড়া এক কর্মীকে মারধর এবং তাঁর কাছে থাকা ৪৪ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উজিরপুর পৌরসভার ইচলাদী এলাকায় অবস্থিত কুরিয়ার অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির শাখা ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম মুন্না জানান, ঘটনার সময় কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অফিসের সামনে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় বাধা দিতে গেলে অফিসের এক কর্মীকে মারধর করা হয়। পরে হামলাকারীরা অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি মোটরসাইকেল, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করেন। একই সঙ্গে এক কর্মীর কাছে থাকা ৪৪ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অভিযোগে উল্লেখ করা ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা যায়। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।

কুরিয়ার অফিসটি যে বাড়িতে ভাড়া নেওয়া হয়েছে, সেই বাড়ির মালিকের বড় ভাই বলেন, এ ধরনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা জরুরি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।

বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, ঘটনার সময় বাড়ির পানির লাইন, দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়েছে। কুরিয়ার অফিসের ভেতরে থাকা মালামালও নষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভাঙচুরের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান বাড়ির মালিকের স্ত্রী।

অফিসের অন্য এক কর্মচারী বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। হামলাকারীদের সঙ্গে তাঁদের কোনো বিরোধও নেই এবং তাঁরা হামলাকারীদের চেনেন না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে, অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের মোবাইল নম্বর না থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক মো. রেজাউল করিম মুন্না উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular