বরিশালের নদীবেষ্টিত দ্বীপ উপজেলা মেহেন্দিগঞ্জ। মেঘনা, তেঁতুলিয়া, গজারিয়া ও কালাবদরসহ ছোট-বড় অসংখ্য নদী ঘিরে থাকা এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি এলাকাই কমবেশি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে। প্রতি বছর বর্ষায় নদীর পানির চাপ বাড়লে বিলীন হয় কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, কবরস্থান, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভাঙনের মুখে পড়ে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন অনেক পরিবার। এতে নদীতীরের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।
চলতি বর্ষা মৌসুমে উপজেলার দড়িচর খাজুরিয়া, চরগোপালপুর, আলীমাবাদ ও জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে তীব্র আকার ধারণ করেছে ভাঙন। এরই মধ্যে বসতভিটা হারিয়েছে এসব এলাকার অনেক পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে চরগোপালপুর ও আলীমাবাদ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চরমিটুয়া ও জালিরচর গ্রামে দেখা যায়, একেবারে বসতবাড়ির কাছে চলে এসেছে তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন। প্রবল স্রোতে প্রতিদিন ধসে পড়ছে নদীর পাড়ের মাটি। এরই মধ্যে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও গাছপালার অনেকটাই বিলীন হয়েছে নদীতে। ভাঙনের আশঙ্কায় ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে।
আলীমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বাপ্পী বলেছেন, ‘দিনরাত সমানতালে ভাঙন চলছে। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা গেলে হয়তো গ্রামটি রক্ষা করা সম্ভব।’ জালিরচর গ্রামের কাবুল হাওলাদার বলেছেন, ‘চোখের সামনে দাদা-দাদি ও বাবার কবর নদীতে ভেসে যেতে দেখেছি। এখন যে ঘরে থাকি, সেটিও নদী থেকে মাত্র ১০ হাত দূরে। যেকোনো সময় সেটিও চলে যেতে পারে।’
দড়িচর খাজুরিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোশাররফ আকন বলেছেন, সাম্প্রতিক ভাঙনে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল বলেছেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।