মঙ্গলবার, আগস্ট ১৮, ২০২৬
No menu items!
spot_img

মাদকাসক্ত বাবার ভয়ে থানায় শিশুকন্যা, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

বাবার কাছে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে পিরোজপুরের জিয়ানগর থানায় এসে আশ্রয় নেওয়া ১২ বছরের এক শিশুকে ভান্ডারিয়ার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত বাবা চণ্ডীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত হাওলাদারকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে অব্যাহতি দিয়েছে জেলা বিএনপি। রোববার (১৬ আগস্ট) শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইন্দুরকানী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি ও সংশ্লিষ্ট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোছা. হনুফা বেগম (৫৫) তার স্বামী মো. সাফায়েত হাওলাদারের (৬০) বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়, সাফায়েত হাওলাদার শিশুটির বাবা। তিনি মাদকাসক্ত,শিশুটিকে নিয়ে তার পক্ষ থেকে অশোভন ও আপত্তিকর কথাবার্তা এবং আচরণ করে । একই সঙ্গে শিশুটিকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ অবস্থায় শিশুটিকে বাবার কাছে রাখা নিরাপদ নয় উল্লেখ করে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। পরে শিশুটি নিজেই ইন্দুরকানী থানায় এসে নিরাপত্তার জন্য আশ্রয় চাইলে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।

শিশুটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরে তাকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভান্ডারিয়ার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। বর্তমানে সেখানে শিশুটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত সাফায়েত হাওলাদারের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। সোমবার (১৭ আগস্ট) জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নীতি-আদর্শ ও নৈতিক স্খলনজনিত কার্যকলাপের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চণ্ডীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সাফায়েত হাওলাদারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জিয়ানগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক হাওলাদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের পরামর্শক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাফায়েত হাওলাদার। তিনি বলেন, আমার ছোট মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে কী বলছে, আমি জানি না। আর কী কারণে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়েও আমি অবহিত নই। আমি বিএনপির একজন ত্যাগী কর্মী। আওয়ামী লীগের সময় আমি বারবার মামলা ও হামলার শিকার হয়েছি।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মহব্বত খান বলেন, শিশুটির বাবা সাফায়েত হাওলাদার মাদকাসক্ত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিশুটিকে নিয়ে তার পক্ষ থেকে অশোভন ও আপত্তিকর কথাবার্তা এবং আচরণের অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটিকে বাল্যবিবাহ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভান্ডারিয়ার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular