বাংলাদেশের বর্তমান সংবিধান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা বহাল থাকলে আগামী পাঁচ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের সিরাজউদ্দিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বরগুনা জেলা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, এমন ভাবে সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমতায়ন করা হয়েছে, যে ব্যক্তি এই প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে কিছুদিন বসবেন তিনিই দুই-চার-পাঁচ বছরে আপনা আপনি ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠেছেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে সংবিধান, এটিই হলো ফ্যাসিবাদ তৈরির মূল কারখানা। বাংলাদেশে রাষ্ট্র নিয়ে এবং দেশ নিয়ে যারা ভাবেন, তারা গভীরভাবে অনুধাবন করলেই বুঝতে পারবেন, আজ বাংলাদেশে যে সংবিধানমুখী ব্যবস্থা আছে এটা যদি চলতে থাকে তাহলে আগামী পাঁচ বছর পর তারেক জিয়া একটা শেখ হাসিনায় পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই না অতীতের পুলিশ যেমন পুলিশ লীগে পরিণত হয়েছিল আবার নতুন বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল, যুবদল ও ছাত্রদলের পরে আরেকটা পুলিশ দল হোক। বাংলাদেশের মানুষ চায় পুলিশ দেশের জনগণের সেবক হবে। সরকারি দলের পেটোয়া বাহিনী হবে না। বাংলাদেশের মানুষ চায়, প্রশাসন হবে দল নিরপেক্ষ। মেধার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও নির্দলীয়তার ভিত্তিতে প্রশাসনে লোক নিয়োগ হবে। তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে তাগিদ দিয়ে সনদের চারটি মৌলিক বিষয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্র প্রধান রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে হবে। বিচার বিভাগের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কমিশনের মাধ্যমে বিচার বিভাগ পরিচালনা করতে হবে। বিচার বিভাগ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের আজ্ঞাবাহী থাকতে পারবে না। পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে নির্দলীয় করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে হবে, দলীয় কোনো কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে না। এবং একটি নিরপেক্ষ সর্বজনগ্রাহ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে ফেয়ার ইলেকশন নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিষয়ে তিনি বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দিয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার। যিনি বিগত দিনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা করেছেন। একজন দলীয় লোককে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশে কোনোদিন নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব? এই নির্বাচনকে কলুষিত করেছিল শেখ হাসিনা। কখনো বিনা ভোটে, কখনো রাতের ভোটে, কখনো আমি আর ডামি মার্কা নির্বাচনের সরকার। জনগণের ভোট দেওয়ার আর দরকার হতো না। ভোটের দিন সারাদিন মানুষ নাকে তেল দিয়ে ঘুমাইতো। আর সমস্ত ভোট কেন্দ্রগুলো দখলে থাকতো কুকুর বিড়ালের। আবার বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে নিজেদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তার দলীয় নির্বাচন পরিচালককে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দিয়েছে। আগামী স্থানীয় নির্বাচন কীভাবে হবে তা আমাদেরকে আগাম ম্যাসেজ দিয়ে দিয়েছে।



