বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার এনায়েত উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির পাঠদান চলাকালে হঠাৎ শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। এতে আহত হয় তিন শিক্ষার্থী। এর আগেও বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঘটনার পরও ভবনটি সংস্কার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। ফলে এখনো দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে ক্লাস করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরিশাল বিভাগের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনই এখন জরাজীর্ণ। কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোনো ভবনের ছাদ থেকে বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন অভিভাবকেরা।
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৬ হাজার ২৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭১টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো শুরু হয়নি প্রয়োজনীয় কাজ।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, বরিশালে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া পিরোজপুরে ১৯৯টি, বরগুনায় ১৩২টি, ভোলায় ১১৫টি, ঝালকাঠিতে ৮৫টি এবং পটুয়াখালীতে ২২টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরিশাল বিভাগের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনই এখন জরাজীর্ণ। কোথাও দেয়ালে ফাটল, কোথাও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আবার কোনো ভবনের ছাদ থেকে বেরিয়ে এসেছে রড। বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকছেন অভিভাবকেরা।
বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ৬ হাজার ২৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭১টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ভবন সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হলেও অনেক বিদ্যালয়ে এখনো শুরু হয়নি প্রয়োজনীয় কাজ।
জেলাভিত্তিক হিসাবে, বরিশালে সবচেয়ে বেশি ৩২০টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া পিরোজপুরে ১৯৯টি, বরগুনায় ১৩২টি, ভোলায় ১১৫টি, ঝালকাঠিতে ৮৫টি এবং পটুয়াখালীতে ২২টি বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
বরিশাল সদর উপজেলার ৭৮ নম্বর আদর্শ মাতৃমন্দির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত হয়েছিল ১৯৯৫ সালে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিন্টু কুমার কর বলেন, প্রায় পাঁচ থেকে সাত বছর ধরে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সংস্কার করা হয়নি।
আমানতগঞ্জের এনায়েত উল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুসরাত জাহান বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ক্লাস চলাকালে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছিল। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়। তবে এর আগ থেকেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার করা হয়নি। শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থী সবাই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে তারা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। কখন ছাদের পলেস্তারা কিংবা ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে, সেই আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের। তারা দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কারের দাবি জানালেও অনেক বিদ্যালয়ে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। জরাজীর্ণ অবকাঠামোর পাশাপাশি কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ ও আসবাবপত্রের সংকট রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান।
বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা তৈরি করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে।
বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবনগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব বিদ্যালয়ের সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যাওয়া শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না অভিভাবকদের। দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেভাগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর সংস্কার ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।