বরিশালের উজিরপুরে যুবদলকর্মী কাওসার হাওলাদার হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পশ্চিম সাতলার সাতলা একতা বাজারের প্রধান সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সমাজসেবক আব্দুল হক হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে নারী-পুরুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। এ সময় তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কাওসার হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের রহস্য উদ্ঘাটন করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন অংশগ্রহণকারীরা। মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় তাঁরা কাওসার হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে উজিরপুর-কোটালীপাড়া সীমান্তবর্তী পশ্চিম সাতলা এলাকায় কাওসার হাওলাদার (৩৭) ও রাশেদ আমিন হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা একটি ঘরে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় কাওসারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলায় রাশেদ আমিনও আহত হন।
ঘটনার পর একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের লোগোযুক্ত মাইক্রোবাসে পালানোর সময় পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানার টোল প্লাজা এলাকা থেকে ধারালো অস্ত্রসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত কাওসারের মেজো ভাই মোস্তফা হাওলাদার বাদী হয়ে গত ২৪ অক্টোবর উজিরপুর মডেল থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।