সোমবার, নভেম্বর ২, ২০২৬
No menu items!
spot_img

ছয় বছর ধরে বন্ধ অবসর ভাতা, নামের জটিলতায় দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন সাবেক সেনাসদস্য

দেশের সেবায় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি বছর কাটিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে। ১৯৯৪ সালে সৈনিক পদ থেকে অবসরে যাওয়ার পর নিয়মিত পেতেন অবসর ভাতা। কিন্তু পরিচয়পত্রে নামের অসংগতির কারণে ২০২০ সাল থেকে বন্ধ হয়ে গেছে সেই ভাতা। ছয় বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও সমাধান মেলেনি সাবেক সেনাসদস্য মো. গোলাম কবিরের। এরই মধ্যে ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচার, চিকিৎসার ঋণ এবং সংসারের অভাব-অনটনে দিন কাটছে তাঁর।

গোলাম কবির পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার চিত্রা গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭৯ সালের ১৭ জুলাই মাত্র ১৮ বছর বয়সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। কর্মজীবনের শুরুতে তাঁর কর্মস্থল ছিল ৩৯ ই বেঙ্গল। প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনের পর ১৯৯৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম সেনানিবাস থেকে সৈনিক পদে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর প্রতি মাসে ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা করে ভাতা পেতেন।

তাঁর অভিযোগ, সেনাবাহিনীতে যোগদানের সময় থাকা নামের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ব্যবহৃত পরিচয়পত্রের নামের অমিল দেখা দেওয়ায় ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় নামের অসংগতি সংশোধন করতেও নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁকে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে একাধিক দপ্তরে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ জীবিত থাকার প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।

গোলাম কবির জানান, অবসরের সময়কার প্রয়োজনীয় নথিপত্র রাজশাহী সেনানিবাসে সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সেখানেও যোগাযোগ করতে হয়েছে। এত চেষ্টা করেও দীর্ঘ ছয় বছরে বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাতা চালু করতে পারেননি তিনি।

শুধু ভাতা বন্ধের সমস্যাই নয়, শারীরিক অসুস্থতাও তাঁর জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে তাঁকে। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ধারদেনা করতে হয়েছে। বর্তমানে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁর স্ত্রী মুকুল বেগম বলেন, তাঁদের দুই ছেলে থাকলেও দুজনই বেকার। পরিবারের উপার্জনের নির্ভরযোগ্য কোনো ব্যবস্থা নেই। পরিচয়পত্রের সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে অনেক টাকাও খরচ হয়েছে। এখন তাঁরা চান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি সমাধান করে তাঁর স্বামীর প্রাপ্য অবসর ভাতা চালুর ব্যবস্থা করুক।

গোলাম কবিরের ভাতিজা মনসুর আহমেদ লিখন বলেন, কেবল নামের অসংগতির কারণে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য দীর্ঘদিন ধরে তাঁর প্রাপ্য ভাতা পাচ্ছেন না। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউর রব্বী বলেন, গোলাম কবির জীবিত থাকার প্রত্যয়নপত্রের জন্য আবেদন করেছেন। আবেদনটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular