শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬
No menu items!
spot_img

স্বীকৃতির দাবিতে ছয় মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন

পটুয়াখালীর বাউফলে সন্তানের পিতৃপরিচয় ও স্বীকৃতির দাবিতে ছয় মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করেছিলেন নিপা আক্তার (২৩)। দীর্ঘ বিরোধের পর ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে কবির হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়েছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে কবির হাওলাদারকে শিশুটির বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, পিতৃত্ব নির্ধারণের জন্য নিপা আক্তার, তাঁর শিশুসন্তান আরিয়ান এবং কবির হাওলাদারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নিপার রক্ত, শিশুটির মুখের ভেতরের কোষের দুটি নমুনা (বাক্কাল সোয়াব) এবং কবির হাওলাদারের রক্তের নমুনা ফরেনসিক সিআইডিতে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলে কবির হাওলাদারকে শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়াবাগা গ্রামে কবির হাওলাদারের বাড়িতে অবস্থান নেন নিপা। সঙ্গে ছিল তাঁর ছয় মাস বয়সী শিশুসন্তান। নিপার আসার খবর পেয়ে কবির ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিপার আগে জহির নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের চার বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রায় দেড় বছর আগে স্বামী কাজের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে প্রতিবেশী কবির হাওলাদারের সঙ্গে নিপার সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা গেছে।

নিপার অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে কবির তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তাঁর স্বামী বিবাহবিচ্ছেদ করেন। এরপর নিপা একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির পিতৃত্ব ও স্বীকৃতি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তিনি কবিরের বাড়িতে অবস্থান নেন।

এ ঘটনায় নিপার বাবা জুলফু হাওলাদারও সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে বাউফল থানায় মামলা হলে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক সিআইডিতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির জৈবিক পিতৃত্ব শনাক্ত হলেও সন্তানের আইনগত স্বীকৃতি ও অন্যান্য অধিকার নিশ্চিতের বিষয়টি এখন পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular