দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী। গত ২৮ অক্টোবর বরগুনা সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের কাঁঠালতলী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে জাগোনারীর ‘কেয়ার সাইক্লোন অ্যান্টিসিপেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ফর এমপাওয়ার্ড উইমেন’ (CARE – Cyclone Anticipation & Resilience for Empowered Women) প্রকল্পের আওতায় পানি নিরোধী সুরক্ষা ব্যাগ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কাঁঠালতলী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এ ছাড়াও ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জাগোনারীর পরিচালক, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাইরে ও দুর্যোগঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত ২৮০ জন নারী উপকারভোগী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় জেলা বরগুনায় প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। দুর্যোগের সময় নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শুকনো খাবার, ওষুধসহ মূল্যবান সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। এসব ক্ষয়ক্ষতি কমাতেই পানি নিরোধী সুরক্ষা ব্যাগ বিতরণের এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একটি দুর্যোগ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করে এবং অনেক সময় মানুষকে অসহায় করে তোলে। দুর্যোগকালীন সময়ে পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে জাগোনারীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন তাদের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান জিনিসপত্র সুরক্ষিত রাখতে পারে এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকায় ফিরে আসতে পারে, সে লক্ষ্যেই CARE প্রকল্পের আওতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বিতরণ করা পানি নিরোধী ব্যাগে দুর্যোগের সময় পরিবারের জরুরি জিনিসপত্র নিরাপদে সংরক্ষণ করা যাবে। বিশেষ করে জমির দলিল, পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী সুরক্ষিত রাখতে ব্যাগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একজন উপকারভোগী বলেন, “গত বছর পানিতে আমার সব দলিলপত্র ভিজে গিয়েছিল। এই ব্যাগ পেয়ে এখন দলিল ও জরুরি কাগজপত্রগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে নিরাপদে রাখতে পারব।”
অন্যান্য উপকারভোগীরাও জানান, এ ধরনের উদ্যোগ দুর্যোগ মোকাবিলায় তাঁদের আরও আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী করে তুলবে।
দুর্যোগ আসবেই, তবে আগাম প্রস্তুতি ও সচেতনতা থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।