জুলাই আন্দোলনে দায়ের করা মামলাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেতা মো. মিজানুর রহমান খান (মনির খান) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
বুধবার (০৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে তিনি সেখানে নিবিড় পরিচর্যায় ছিলেন।
আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার হাতে হাতকড়া পরানো একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। পরিবারের দাবি, পরে হাতকড়া খুলে দেওয়া হলেও তার অবস্থার আর উন্নতি হয়নি।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মনির খান পটুয়াখালী সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি একসময় সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ছাত্রলীগের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ফেডারেশনের সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিন্টো রোড এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ও পটুয়াখালীতে মোট ৯টি মামলা ছিল। প্রায় ১১ মাস কারাভোগের সময় কয়েকটি মামলায় জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ফলে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
মনির খানের স্ত্রী কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা. সালমা জাহান জানান, গত ৯ জুন কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্বামী স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৪ জুন আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয় এবং দুই দিন পর লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সবশেষ ৩০ জুলাই শেষ মামলাতেও তিনি জামিন পান। তবে শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতাল থেকেই আর মুক্তি মেলেনি।
মনির খানের চাচা আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। পরে পটুয়াখালী সদর উপজেলা মাঠে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।