পিরোজপুরের নেছারাবাদে গরু চুরির ঘটনায় এবার চোরদের কৌশল ছিল বেশ অভিনব। বাড়ির গোয়ালঘর পাহারা দেওয়া পাঁচটি কুকুরকে অচেতন করে একটি গর্ভবতী গরু নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও অসুস্থ কুকুরগুলোর অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দৈহারী ইউনিয়নের থালিয়া গ্রামে কৃষক হরিদাস হালদারের বাড়িতে। গত ৮ আগস্ট ভোরে গোয়ালঘরে গিয়ে গরু না পেয়ে চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি। পরিবারের ধারণা, এর কয়েক ঘণ্টা আগে রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে চোরেরা গরুটি নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, হরিদাস হালদারের বাড়ির আশপাশে থাকা পাঁচটি কুকুরকে তিনি নিয়মিত খাবার দিতেন। ফলে রাত হলেই কুকুরগুলো গোয়ালঘরের আশপাশে অবস্থান করত। অনেকটা নিজের বাড়িরই পাহারাদারের মতোই তারা গবাদিপশুগুলো দেখভাল করত।
তবে ঘটনার রাতে সেই পাহারাই কাজে আসেনি। সকালে হরিদাস দেখতে পান, গোয়ালঘর ফাঁকা এবং কিছু দূরে পাঁচটি কুকুর নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছে। পরিবারের অভিযোগ, কোনো অচেতনকারী পদার্থ ব্যবহার করে কুকুরগুলোকে অচেতন করার পর চোরেরা গরুটি নিয়ে গেছে।
চুরি যাওয়া গরুটি গর্ভবতী ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, আর মাসখানেক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই গরুটির বাছুর প্রসব করার কথা ছিল। ফলে গরু হারানোর পাশাপাশি অনাগত বাছুরটিকেও হারানোর আশঙ্কায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ঘটনার কয়েক দিন পরও কুকুরগুলো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেনি। তারা খাবার গ্রহণ করছে না এবং স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও পারছে না বলে জানিয়েছেন হরিদাস।
হরিদাস হালদার বলেন, ‘কুকুরগুলোকে নিয়মিত খাবার দিতাম। রাতে ওরাই গোয়ালঘরের পাশে থেকে গরুগুলো পাহারা দিত। এখন আমার গরু নেই, আবার কুকুরগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি।’
পাটিকেলবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিশ্বজিৎ জানান, চুরির ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি ইন্দুরহাট ও চাঁদকাঠির দিকে যাতায়াতের সড়কগুলোর তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।