বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
No menu items!
spot_img

ধ্বংসস্তূপে ১০ দিন পর লকেটে মিলল নিখোঁজ শিক্ষিকা মুক্তার পরিচয়

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে গলায় থাকা লকেট দেখে তার পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। মুক্তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট থেকে তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

এর আগে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাদের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানায়। তবে ওই ১০ জনের মধ্যে ছিলেন না মুক্তা। তা স্বজনদের ডিএনএর নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নমুনার মিল না পাওয়ায় তাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর মুক্তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

মুক্তা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে তারা ইনানীর ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তার দুই বান্ধবী প্রাণে বাঁচলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন মুক্তা।

ফয়সাল বলেন, ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা মুক্তার সন্ধানে অপেক্ষা করছিলেন। একে একে অন্য নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে গলায় থাকা লকেট দেখে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এদিকে মুক্তার ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলাম উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার অভিযোগ, প্রথম দফায় ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও মুক্তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা মুক্তাকে খুঁজে পাননি। পরে তার দুলাভাইয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবার ঘটনাস্থলে নেওয়া হলে লকেট দেখে মুক্তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

হাসিবুল বলেন, মুক্তার বান্ধবীরা বারবার জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরে ছিলেন। এরপরও কেন তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না, সেই প্রশ্নের উত্তর তারা এখনো পাননি। পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে মুক্তার সন্ধান আরও আগেই পাওয়া সম্ভব হতো।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, টুপটুপ রিসোর্টের পুরো ধ্বংসাবশেষে গতকাল সকালে একটি সমন্বিত টিম নিখোঁজ মুক্তার মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দোতলার ওপর থেকে কংকালটি উদ্ধার করে।

এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular