পিরোজপুরের জিয়ানগরে স্মার্ট ফোন চুরির ঘটনায় কিশোরকে গাছে বেধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন ও চুল কেটে দেয়ার দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার সেউতিবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি একইদিন রাতে এই প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোহাব্বত খান। স্থানীয়রা জানান, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের
জসিম মল্লিকের ঘর থেকে শনিবার দুপুরে প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি স্মার্ট ফোন ও কিছু টাকা চুরি হয়। এসময় স্থানীয়রা ওই কিশোরকে সন্দেহজনক মনে করলে আটক করে তার কাছ থেকে দুটি স্মার্ট ফোন এবং টাকা উদ্ধার করে। ভিডিওতে দেখা যায়, ওই কিশোরকে স্থানীয় কিছু লোক মারধর করে এবং গাছে বেধে পেটানো হয়। এসময় চুরির কথা স্বীকার করেন ওই কিশোর। পরে আরও একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটির মাথার চুল কেটে দেয়া হয়েছে। থানা সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরের নাম জাকারিয়া (১৭)। সে উপজেলার কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন এর ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, কিশোর জাকারিয়া এর আগেও বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। কেএম শামীম রেজা নামে একজন ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে জানান, সেউতিবাড়িয়া গ্রামের জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি এন্ড্রয়েড ফোন চুরি করে। চোর পালিয়ে যাওয়ার সময় ঘর মালিক জসিমের সন্দেহ হলে চোরকে আটক করে। এসময় ওই চোরের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ফোন দুটি পাওয়া যায়। এর আগেও দুটি ঘর থেকে চুরি করে বলে স্বীকারোক্তি দেন ওই চোর। সেউতিবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ হোসেন জানান, স্থানীয় জসিম মল্লিকের ঘর থেকে দুটি এন্ড্রয়েড ফোন চুরি করে যাওয়ার সময় সন্দেহ জনকভাবে ওই চোরকে আটক করে। এসময় চোরের কাছ থেকে দুটি ফোন উদ্ধার করা হয়, তখন স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে চোরকে মারধরকরে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় এরকম চুরির ঘটনা ঘটছে, এসব চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া উচিত। জসিম মল্লিক বলেন, আমি বাইরে ছিলাম এবং মা ঘরে জোহরের নামাজ পড়ছিল তখন ১৬-১৭ বছর বয়সী ওই ছেলেটা আমার এবং মায়ের দুটি স্মার্ট ফোন ও খাটের ওপরে রাখা মানিব্যাগে দেড় হাজার টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। তখন আমি বাড়ির গেট থেকে ছেলেটাকে বের হয়ে যেতে দেখলে সন্দেহ হয়, এসময় আমি ওকে জিগ্যাসাবাদের এক পর্যায়ে ভুল-ভাল তথ্য দিলে সন্দেহ আরও বাড়লে এক পর্যায়ে দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে চোরটি। এসময় আমি ডাকচিৎকার দিলে আমার মা দৌড়ে এসে বলে ফোন চুরি হয়ে গেছে। তখন চোরকে আটক করি এবং ফোন দুটি উদ্ধার করি। এ সময় আমি ক্ষুব্ধ হয়ে দুটি থাপ্পড় দিয়েছি, এসময় স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোহাব্বত খান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।