ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় গভীর রাতে একটি বসতঘরে চুরির ঘটনায় সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এক গৃহবধূ। চোরকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চোরের আঙুল কামড়ে ধরলে আঙুলের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে সহযোগীদের সহায়তায় চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থলে আঙুলের বিচ্ছিন্ন অংশ রেখে যায়। পালানোর সময় চোরের দল ঘর থেকে দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
বুধবার (৫ আগস্ট) গভীর রাতে উপজেলার মঠবাড়ী ইউনিয়নের ডহরশংকর গ্রামের খলিফা বাড়িতে সৌদি প্রবাসী জুয়েল খলিফার বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে গৃহবধূ মোসা. ঝুমুর বেগম (২৭) রাতের খাবার শেষে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। তার ছেলে নাহিদুজ্জামান নোমান, মেয়ে নাফিসা এবং শাশুড়ি হাসিনা বেগম পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে শব্দ পেয়ে ঝুমুর বেগমের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি ঘরের ভেতরে একজন চোরের উপস্থিতি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে চোর তার মুখ চেপে ধরে। এ সময় উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে চোরের একটি আঙুল ঝুমুর বেগমের মুখে চলে গেলে তিনি সেটি শক্ত করে কামড়ে ধরেন। এতে চোরের আঙুলের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে তার মুখে থেকে যায়।
পুলিশ জানায়, পরে চোর ঝুমুর বেগমকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘরের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে যায়। এ সময় বাইরে অবস্থানরত তার সহযোগীরা তাকে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। পালানোর সময় চোরের দল ঘরে থাকা দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। গৃহবধূর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। খবর পেয়ে রাজাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্প্রতি এলাকায় চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা রাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পুলিশের টহল বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন।
রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।