বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের দ্রুত অপসারণের দাবিতে অধ্যক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন বিভাগের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ঘটনা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কলেজ প্রশাসন।
অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. তাজুল ইসলাম ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আনোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষা সফরকে কেন্দ্র করেও তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং তারা মঙ্গলবার (২১ জুলাই) অধ্যক্ষের কাছে শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে আবেদন করেন।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি নোট বিক্রি এবং অর্থের বিনিময়ে ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত।তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন,
“বিভাগের কারও সঙ্গেই আমার বিরোধ নেই। মাস্টার্সের অফিসিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ কিংবা নোটিশ বোর্ডে কুরুচিপূর্ণ কোনো মন্তব্য করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা ৬-৭ মাস আগের যেসব মন্তব্যের কথা বলছে, তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
বিষয়টিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাবের হোসেন জানান, ঘটনাটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত তদন্ত ছাড়া মন্তব্য করা সমিচীন নয়। তবে কমিটি ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কাজ শুরু করে দিয়েছে।